
বিশেষ প্রতিনিধি:
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার কুঠিরহাট ও তৎসংলগ্ন নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গুটি কয়েকজন বালু দস্যুর পকেট ভারী হলেও নদী ভাঙনের মুখে পড়ে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছে শত শত সাধারণ পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার আকুতি জানালেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কুঠিরহাট ও এর আশপাশের ছোট ফেনী নদী থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শক্তিশালী ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
বালু দস্যুদের এই লাগামহীন দৌরাত্ম্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ:
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বালুমহাল ছাড়া যেকোনো স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ সোনাগাজীর কুঠিরহাটে প্রকাশ্যে বালু লুটপাট চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ চোখ পড়ছে না।
১. তাত্ক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: অবিলম্ব অভিযান চালিয়ে ড্রেজার ও বালু বহনে ব্যবহৃত অবৈধ যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
২. স্থায়ী বালু উত্তোলন নিষেধাজ্ঞা: নদীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করা।
৩. নদী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা: নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে জিওবাগ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।
স্থানীয় এক বাসিন্দার আকুতি: “আমরা টাকা-পয়সা চাই না, শুধু বাপ-দাদার ভিটেমাটিটুকু রক্ষা করতে চাই। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে মানচিত্র থেকেই কুঠিরহাটের আশপাশের গ্রামগুলো হারিয়ে যাবে।”
প্রশাসনের কাছে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের আকুল আবেদন—অবিলম্বে এই অবৈধ বালু কারবার বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মন্তব্য করুন