
নব্বইয়ের দশকে বিটিভির রঙিন পর্দায় যার উজ্জ্বল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করতো, রূপালী পর্দায় যার অভিনয়ের দ্যুতি মন জয় করেছিল কোটি দর্শকের—সেই গুণী অভিনেতা সৌম্য চৌধুরী (সমু চৌধুরী) আজ কোথায়?
’নদীর নাম মধুমতি’, ‘আদরের সন্তান’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করা, আমজাদ হোসেনের মতো কিংবদন্তি নির্মাতার স্নেহধন্য সেই নায়ক আজ কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন! যে অভিনয়শিল্পীর স্থান হওয়ার কথা ছিল অভিনয়ের সুউচ্চ শিখরে, আজ তাকে দেখা যাচ্ছে উদাসীন ও ভবঘুরে বেশে। মাজারের পাশে লুঙ্গি-গামছা পড়ে শুয়ে থাকা, অবহেলায় দিন কাটানো, কিংবা কতিপয় ভিউ-সর্বস্ব ইউটিউবারের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করার দৃশ্যে আজ বিদ্ধ হচ্ছে দেশবাসীর হৃদয়।
বিটিভি থেকে রুপালী পর্দা, তারপর হঠাৎ কী এমন ঝড় এলো তার জীবনে, যা একসময়ের সুপারস্টারকে নিয়ে এলো রাজপথে? ‘নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে অভিনেতা সৌম্য চৌধুরীর পর্দার পেছনের অপ্রকাশিত ও ট্র্যাজিক গল্পের অনুসন্ধান।
১৯৬৪ সালের ৮ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিল্পী ১৯৯০ সালে বিটিভির জনপ্রিয় নাটক ‘সমৃদ্ধ অসীম’-এর মাধ্যমে পা রাখেন অভিনয় জগতে। নিজের দক্ষতায় দ্রুতই ছোটপর্দার পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
এর পর ১৯৯৫ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ‘আদরের সন্তান’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর জমকালো অভিষেক ঘটে। ১৯৯৬ সালে তানভীর মোকাম্মেলের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘নদীর নাম মধুমতি’ তে তাঁর সাবলীল ও জোরালো অভিনয় তাকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এরপর ‘দোলন চাঁপা’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের ‘গোলুই’ ও ‘পিনিক’-এর মতো ছবিতেও নিজের অভিনয় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন তিনি।
একসময়ের জনপ্রিয়তা আর খ্যাতির ঝলকানি পেছনে ফেলে আজ সৌম্য চৌধুরীর বর্তমান জীবনের চিত্র অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
যিনি একসময় বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের সম্পদ ছিলেন, আজ কেন তিনি এত নিঃসঙ্গ? শিল্পী সমিতির অবহেলা, নাকি পারিবারিক ও মানসিক সংকটের নির্মম শিকার তিনি?
অভিমান, কষ্ট আর মানসিক যন্ত্রণার কোন অতলে হারিয়ে গিয়ে একজন রক্ত-মাংসের শিল্পী আজ অবহেলার শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য তাকে ক্যামেরাবন্দী না করে, প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা, ভালোবাসা এবং সম্মানের সাথে পুনর্বাসন।
সৌম্য চৌধুরীর এই বর্তমান দশা কেবল একজন মানুষের পতন নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক করুণ ট্র্যাজেডির দলিল। ‘নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিনয়শিল্পী সমিতি এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—যাতে এই গুণী শিল্পীকে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রতিবেদন: নিউজ ডেস্ক
নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিন (newsbdprotidin.com)
মন্তব্য করুন