
বিশেষ প্রতিনিধি
ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ নার্স ও কর্মচারীদের কোণঠাসা করে এক বিশাল দুর্নীতি ও আধিপত্যের বলয় গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নার্স সুপারভাইজার নুরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে। জালিয়াতি, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও হাসপাতালের রান্নাঘরের দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতিপূর্বে তিনি সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হলেও রহস্যজনক ছত্রছায়ায় স্বপদে বহাল রয়েছেন। তার ক্রমাগত স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজিতে বর্তমানে হাসপাতালের পুরো নার্সিং বিভাগ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
আমাদের অনুসন্ধানে এই সিন্ডিকেটের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে:
হাসপাতালের ভুক্তভোগী স্টাফ নার্সদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ইনচার্জ পদ বণ্টন এবং সাধারণ সিস্টারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করছেন নুরজাহান বেগম। প্রতি মাসে বেতন তোলার পর প্রত্যেক নার্সকে বাধ্য হয়ে তাকে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়। এছাড়া লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোর ইনচার্জ পদ পাইয়ে দিতে প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।
নুরজাহানের এই অবৈধ ও অনৈতিক দাবিতে কেউ অসম্মতি জানালে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। নিয়ম ভেঙে তাকে মাসে ১৫ দিন পর্যন্ত নাইট ডিউটি (রাতের ডিউটি) দেওয়া হয়। অথচ সরকারি নিয়মানুযায়ী একজন নার্সের মাসে সর্বোচ্চ ১০ দিন নাইট ডিউটি করার কথা।
হাসপাতাল ঘিরে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র লালন করছেন নুরজাহান বেগম। লেবার ওয়ার্ডে আসা গর্ভবতী ও প্রসূতি রোগীদের প্রলুব্ধ করে ও ভয় দেখিয়ে নুরজাহানের নির্ধারিত ক্লিনিকে বা স্থানে নিয়ে যাওয়াই এই চক্রের কাজ। সেখানে ‘চুক্তিভিত্তিক’ ডেলিভারির নামে রোগীপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়, যার একটি মোটা অঙ্কের কমিশন পান ওই দালালরা।
মন্তব্য করুন