
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা
সড়ক নির্মাণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হওয়া এবং বারবার সংস্কারের নামে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের কাজে যেকোনো ঠিকাদারি চুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ও বাধ্যতামূলক শর্ত। নতুন নিয়মানুযায়ী—কাজ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হলে ঠিকাদারকে নিজ খরচে তা মেরামত করতে হবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ঠিকাদারি চুক্তিতে এই শর্ত যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
দেশে সড়ক নির্মাণের পর কয়েক মাসের মধ্যেই খানাখন্দ তৈরি হওয়া এবং পিচ উঠে যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর ফলে জনগণের ভোগান্তি যেমন বাড়ছিল, তেমনি প্রতি বছর সংস্কার খাতে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করে কেটে পড়ে। পরে সেই সড়ক মেরামতের জন্য আবার নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করতে হয়। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ঠিকাদারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই প্রধানমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
১. উচ্চমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার: শুরুতেই যেন সড়ক নষ্ট না হয়, সে জন্য ঠিকাদাররা উন্নতমানের বিটুমিন, পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারে বাধ্য হবেন। 2. সরকারি অর্থের সাশ্রয়: বারবার একই সড়ক সংস্কারের পেছনে থাকা কোটি কোটি টাকার অপচয় বন্ধ হবে। 3. যাত্রী ভোগান্তি হ্রাস: টেকসই ও ভালো সড়ক নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং গণপরিবহনে দুর্ঘটনা কমবে। 4. দুর্নীতি রোধ: অনিয়মের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করে বিল তুলে নেওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁরা মনে করেন, এই উদ্যোগ শতভাগ সফল করতে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে:
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অবকাঠামো খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ জনগণ করের টাকায় নির্মিত টেকসই সড়কের সুফল পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন